মূল লেখায় যান

গেছো ভূতের বাঁশবাগান

গ্রামের শেষ মাথার বাঁশবাগান পেরোলেই স্কুল। সন্ধ্যার পর ওই পথে হাসির শব্দ শোনা যায়, অথচ আশেপাশে কেউ থাকে না।

শ্যাশ্যামল দত্ত@shyamal
  • ১১ মিনিট
  • ২০ হাজার বার পড়া হয়েছে
  • ১.২ হাজার জন পছন্দ করেছেন
গেছো ভূতের বাঁশবাগান

বাঁশবাগানের গেছো ভূত

নয়ন প্রতিদিন বাঁশবাগানের পথ দিয়েই স্কুলে যেত। সকালে পথটা সুন্দর, রোদ পাতার ফাঁক দিয়ে ঝিলমিল করে। কিন্তু একদিন খেলার মাঠে দেরি হয়ে গেল, ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা নেমে এল।

বাঁশবাগানে ঢুকতেই একটা হাসির শব্দ কানে এল—শিশুর মতো, তবু কেমন যেন টেনে টেনে, বাঁশের ডগা বেয়ে নেমে আসছে যেন।

নয়ন ডাকল,— 'কে ওখানে?'

কোনো উত্তর নেই।

শুধু হাসিটা আরেকটু কাছে সরে এল।

মাথার ওপর তাকিয়ে দেখল, একটা ডালে বসে কেউ পা দোলাচ্ছে—লম্বা, রোগা, গায়ের রং বাঁশপাতার মতো সবুজচে। মুখটা দেখা যাচ্ছে না, শুধু হাসিটা চলছেই।

বড়রা বলে, গেছো ভূত কাউকে সরাসরি কিছু করে না, শুধু ভয় দেখিয়ে পথ আটকে রাখে—যতক্ষণ না তুমি নিজেই ভয়ে দৌড়ে পথ হারাও।

নয়ন দৌড়ায়নি।

মাটির দিকে তাকিয়ে, এক পা এক পা করে বাগান পেরিয়ে গেল, হাসিটা পেছনে রেখে।

বাড়ি পৌঁছে সে কাউকে কিছু বলল না।

তার মা তখন উঠানে বসে ধান পরিষ্কার করছিলেন।

নয়নকে দেখে বললেন,— 'এত দেরি হলো কেন?'

— 'খেলা ছিল।'

— 'বাঁশবাগান দিয়ে এসেছিস?'

নয়ন মাথা নাড়ল।

মা আর কিছু বললেন না।

কিন্তু ছেলেটার মুখের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বললেন,— 'আজ আর বাইরে যাস না।'

নয়ন অবাক হলো।

— 'কেন?'

মা উত্তর দিলেন না।


সেদিন রাতে খাওয়ার পর নয়ন ঘুমিয়ে পড়েছিল।

রাত কত হবে জানে না।

হঠাৎ তার ঘুম ভাঙল একটা শব্দে।

হি... হি... হি...

শিশুর হাসি।

নয়ন চোখ খুলে অন্ধকার ঘরের দিকে তাকাল।

আবার শব্দ হলো।

হি... হি... হি...

এইবার জানালার দিক থেকে।

নয়ন উঠে বসল।

জানালাটা বন্ধ।

তারপরও হাসিটা পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে।

সে ধীরে ধীরে জানালার কাছে গেল।

পর্দা সরাল।

বাইরে উঠান।

তারপর পুকুর।

আর পুকুরের ওপারে বাঁশবাগান।

চাঁদের আলোয় বাঁশগুলো নড়ছে।

কিন্তু বাতাস নেই।

একটাও পাতা নড়ছে না।

শুধু বাঁশবাগানের একেবারে মাঝখানে একটা বাঁশ অস্বাভাবিকভাবে দুলছে।

নয়ন তাকিয়ে রইল।

হঠাৎ সেই বাঁশের মাথার ওপর থেকে একটা কালো ছায়া নেমে এল।

তারপর হাসি থেমে গেল।

নয়ন পর্দা টেনে দিল।

সকালে উঠে সে মাকে বলল,— 'মা, রাতে বাঁশবাগানে কেউ ছিল।'

মা থমকে গেলেন।

— 'কী দেখেছিস?'

— 'কিছু না। শুধু হাসির শব্দ।'

মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,— 'তুই আজ স্কুলে যাবি না।'

— 'কেন?'

— 'জ্বর আসছে।'

নয়ন বুঝল, মা কিছু লুকাচ্ছেন।

সে আর জিজ্ঞেস করল না।

কিন্তু দুপুরে তার দাদি বাড়িতে এলে নয়ন সুযোগ পেয়ে তাকে সব বলল।

দাদি অনেকক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর বললেন,— 'তুই গেছো ভূত দেখেছিস।'

নয়ন ফিসফিস করে বলল,— 'ওটা কি আমাকে কিছু করবে?'

দাদি মাথা নাড়লেন।

— 'না। যদি তুই তার সঙ্গে কথা না বলিস।'

— 'আমি তো ডাক দিয়েছিলাম।'

দাদির মুখ বদলে গেল।

— 'কী বলেছিলি?'

— 'কে ওখানে?'

দাদি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— 'ভুল করেছিস।'

নয়নের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

— 'কেন?'

দাদি বললেন,— 'গেছো ভূতকে প্রথমবার ডাকলে সে উত্তর দেয় না। দ্বিতীয়বার ডাকলে সে তোমার সঙ্গে হাঁটে। তৃতীয়বার ডাকলে সে তোমার বাড়ি পর্যন্ত আসে।'

নয়ন শুকনো গলায় বলল,— 'আমি তো একবারই ডাকলাম।'

দাদি তার চোখের দিকে তাকালেন।

— 'তুই নিশ্চিত?'

নয়ন চুপ করে গেল।

সেদিনের ঘটনাটা মনে করার চেষ্টা করল।

বাঁশবাগানে ঢোকার পর সে বলেছিল—'কে ওখানে?'

তারপর হাসি।

তারপর সে আবার বলেছিল,'কেউ আছেন?'

তারপর হাসিটা কাছে এসেছিল।

নয়নের মুখ শুকিয়ে গেল।

দাদি বুঝতে পারলেন।

— 'তুই দুবার ডেকেছিলি।'

তিনি নিচু গলায় বললেন,— 'আজ রাতে দরজা খুলবি না। জানালা দিয়ে তাকাবি না। আর কেউ তোর নাম ধরে ডাকলেও উত্তর দিবি না।'


সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘলা হয়ে গেল।

বৃষ্টি নামল না।

শুধু চারদিক অস্বাভাবিক অন্ধকার।

রাত বাড়তে থাকল।

নয়ন বিছানায় শুয়ে ছিল।

বাইরে তার মা-বাবার কথা শোনা যাচ্ছে।

হঠাৎ—টক।

জানালায় কেউ আঙুল দিয়ে টোকা দিল।

নয়ন চোখ বন্ধ করল।

আবার—টক।

টক।

তারপর খুব আস্তে একটা গলা।

— 'নয়ন...'সে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রইল।

গলাটা তার মায়ের মতো।

— 'নয়ন, দরজা খোল তো।'

নয়ন জানত মা পাশের ঘরেই আছেন।

তাই সে কোনো উত্তর দিল না।

কিছুক্ষণ পর শব্দটা চলে গেল।

তারপর উঠান থেকে হাসি শোনা গেল।

হি... হি... হি...

এইবার হাসিটা শিশুর নয়।

বয়স্ক কারও মতো।

তারপর আবার মায়ের গলা।

— 'নয়ন, বাইরে আয়।'

নয়ন কম্বলের নিচে ঢুকে পড়ল।

কিন্তু কয়েক মিনিট পর একটা জিনিস তার মনে হলো।

তার মা কি সত্যিই পাশের ঘরে?

সে খুব ধীরে বিছানা থেকে নামল।

দরজা খুলল না।

দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে আলো দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ বাইরে কেউ হাঁটছে।

তারপর পায়ের শব্দ।

ধীরে ধীরে।

ঠক...ঠক...ঠক...

তার দরজার সামনে এসে থামল।

তারপর—'নয়ন?'

এইবার কণ্ঠটা তার বাবার।

নয়নের চোখে পানি চলে এল।

কিন্তু সে উত্তর দিল না।

কিছুক্ষণ পর পায়ের শব্দ সরে গেল।

পরদিন সকালে দেখা গেল বাড়ির উঠানের মাটিতে অদ্ভুত দাগ।

কারও পায়ের দাগ নয়।

দুটো লম্বা রেখা।

যেন কেউ দুই পা টেনে টেনে বাড়ির চারপাশে ঘুরেছে।

নয়নের বাবা দাগ দেখে বললেন,— 'বিড়াল বা কোনো প্রাণী হবে।'

কিন্তু তার মুখে বিশ্বাসের চিহ্ন ছিল না।


সেদিন বিকেলে গ্রামের বয়স্ক লোক রহিম চাচা এলেন।

তিনি দাগগুলো দেখে বললেন,— 'বাঁশবাগানে যাস না।'

নয়নের বাবা বিরক্ত হয়ে বললেন,— 'আবার এসব শুরু করলেন?'

রহিম চাচা নিচু গলায় বললেন,— 'আপনি জানেন না।'

— 'কী জানি না?'

— 'এই বাগানে আগে একটা ছেলে মারা গেছিল।'

সবাই চুপ হয়ে গেল।

রহিম চাচা বললেন,— 'প্রায় পঁচিশ বছর আগে। নাম ছিল রতন।'

নয়ন আগ্রহ নিয়ে শুনছিল।

— 'রতনও প্রতিদিন ওই পথ দিয়ে স্কুলে যেত। একদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেনি।'

— 'লাশ?'

— 'তিন দিন পর বাঁশবাগানের ভেতর পাওয়া যায়।'

নয়ন ফিসফিস করে বলল,— 'কীভাবে মারা গিয়েছিল?'

রহিম চাচা তার দিকে তাকালেন।

— 'কেউ জানে না।'

তারপর একটু থেমে বললেন,— 'কিন্তু তার মা বলেছিল, রতন মারা যাওয়ার আগের রাতে সে জানালার বাইরে একটা বাচ্চাকে দেখেছিল।'

নয়নের বুক ধক করে উঠল।

— 'বাচ্চা?'

— 'হ্যাঁ।'

রহিম চাচা বললেন,— 'ছেলেটা ডালে বসে ছিল। পা দোলাচ্ছিল। আর হাসছিল।'

নয়ন ধীরে ধীরে দাদির দিকে তাকাল।

দাদি চোখ নামিয়ে ফেললেন।

সেদিন রাতে নয়ন প্রথমবার নিজের ঘরে একা ঘুমাতে ভয় পেল।

সে বাবার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।

রাত অনেকটা পেরিয়ে গেছে।

হঠাৎ সে শুনল—হি... হি... হি...

বাবা ঘুমিয়ে আছেন।

নয়ন চোখ খুলল।

জানালার বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে।

ছায়াটা এত লম্বা যে মাথা ছাদের কাছাকাছি।

নয়ন কম্বলের নিচে মুখ লুকাল।

কিন্তু তারপর একটা শব্দ শুনে তার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

কেউ জানালার কাঁচে নখ দিয়ে লিখছে।

কড়...কড়...কড়...

সে সাহস করে একটু তাকাল।

কাঁচে ভেতর থেকে নয়—বাইরের দিক থেকে কুয়াশার মতো কিছু জমেছে।

তার ওপর একটা শব্দ ফুটে উঠছে।

'এসো।'

নয়ন চোখ বন্ধ করে ফেলল।

তারপর সে বাবাকে ডাকতে গেল।

কিন্তু বাবার বিছানা খালি।

নয়ন চারদিকে তাকাল।

বাবা নেই।

মায়ের ঘরেও কেউ নেই।

পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ।

হঠাৎ উঠান থেকে বাবার গলা।

— 'নয়ন!'

নয়ন দরজার কাছে গেল।

— 'বাবা?'

— 'বের হয়ে আয়!'

নয়ন হাত বাড়িয়ে দরজার ছিটকিনি ধরল।

ঠিক তখনই দাদির কথা মনে পড়ল।

কেউ তোর নাম ধরে ডাকলেও উত্তর দিবি না।

সে হাত সরিয়ে নিল।

বাইরের গলা বদলে গেল।

এবার মায়ের কণ্ঠ।

— 'নয়ন, দরজা খোল।'

তারপর বাবার।

তারপর দাদির।

তারপর—নয়নের নিজের গলা।

— 'নয়ন, দরজা খোল।'

নয়ন পিছিয়ে গেল।

বাইরে হাসি শুরু হলো।

হি... হি... হি...

তারপর অনেকগুলো শিশুর হাসি।

একসঙ্গে।

বাঁশবাগান থেকে।

নয়ন জানত না কতক্ষণ সে এভাবে বসে ছিল।

ভোরের আজানের শব্দে সবকিছু হঠাৎ থেমে গেল।

দরজা খুলে সে বাইরে বের হলো।

বাবা-মা উঠানে দাঁড়িয়ে।

তারা সারা রাত কোথায় ছিল, কেউ জানে না।

বাবা শুধু বললেন,— 'তুই দরজা খুলিসনি তো?'

নয়ন মাথা নাড়ল।

দাদি তখন উঠানের মাটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

হঠাৎ তিনি চিৎকার করে উঠলেন।

— 'ওটা দেখ!'

সবাই তাকাল।

মাটিতে ভেজা পায়ের দাগ।

বাড়ির দরজা থেকে শুরু হয়েছে।

সোজা নয়নের ঘর পর্যন্ত গেছে।

তারপর জানালার সামনে থেমেছে।

আর সেখান থেকে দাগগুলো বাঁশবাগানের দিকে চলে গেছে।

কিন্তু দাগগুলো মানুষের পায়ের নয়।

পায়ের আঙুলগুলো অস্বাভাবিক লম্বা।

আর প্রতিটি দাগের পাশে ছোট ছোট গোল দাগ।

যেন কেউ মাটিতে বসে বসে লাফিয়ে এগিয়েছে।


নয়ন আর কোনোদিন ওই বাঁশবাগানের পথ দিয়ে স্কুলে যায়নি।

কয়েক মাস পর তার বাবা বাঁশবাগানের একটা বড় অংশ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন।

গ্রামের কয়েকজন লোক মিলে বাঁশ কাটতে গেল।

দুপুরে।

রোদ ঝলমলে।

কেউ ভয় পায়নি।

কিন্তু বাগানের মাঝখানে গিয়ে তারা একটা পুরোনো শুকনো বাঁশের গুঁড়ির ভেতর কিছু দেখতে পেল।

একটা ছোট লাল স্কুলব্যাগ।

ধুলোয় মাখা।

ব্যাগটা খুলতেই পাওয়া গেল একটা পুরোনো খাতা।

প্রথম পাতায় নাম—রতন।

শেষ পাতায় কাঁপা হাতে লেখা কয়েকটা লাইন।

'ও আমাকে ডাকছে।'

তার নিচে—'আমি উত্তর দেব না।'

আর একেবারে শেষে—'কিন্তু নয়ন উত্তর দিয়েছে।'

নয়নের বাবা খাতাটা পড়ে স্থির হয়ে গেলেন।

কারণ খাতাটা ছিল প্রায় পঁচিশ বছরের পুরোনো।

রতন মারা যাওয়ার বহু বছর আগে লেখা।

আর নয়ন তখনও জন্মায়নি।

সেদিন বিকেলে বাড়িতে ফিরে নয়নকে কিছুই বলা হলো না।

কিন্তু রাতে ঘুমানোর আগে সে নিজের স্কুলব্যাগ গোছাতে গিয়ে থমকে গেল।

ব্যাগের ভেতর একটা জিনিস সে আগে কখনো দেখেনি।

একটা ছোট, শুকনো বাঁশপাতা।

তার ওপর কালো দাগ দিয়ে আঁকা একটা মুখ।

দুটি বড় চোখ।

একটা লম্বা হাসি।

নয়ন পাতাটা ফেলে দিতে গেল।

ঠিক তখনই বাইরে থেকে হাসির শব্দ এল।

হি... হি... হি...

নয়ন জানালার দিকে তাকাল না।

কিন্তু এবার হাসিটা অনেক দূর থেকে আসছিল না।

তার ঘরের ছাদের ওপর থেকে আসছিল।

হি... হি... হি...

তারপর খুব আস্তে একটা গলা বলল—— 'নয়ন...'সে চোখ বন্ধ করল।

কিছু বলল না।

আবার গলা এল।

— 'তুই তো দৌড়াসনি।'

নয়নের শরীর শিউরে উঠল।

— 'তাই তোকে আমি পছন্দ করেছি।'

ছাদের ওপর পায়ের শব্দ হলো।

ধীরে ধীরে।

ঠক...ঠক...ঠক...

তারপর জানালার ওপরে একটা ছায়া পড়ল।

নয়ন সাহস করে তাকাল না।

কিন্তু সে জানত—কেউ একজন ছাদের কিনারায় বসে পা দোলাচ্ছে।

আর অপেক্ষা করছে।


তারপর থেকে গ্রামের মানুষ একটা নতুন কথা বলতে শুরু করল।

গেছো ভূত নাকি এখন আর শুধু বাঁশবাগানের ডালে বসে থাকে না।

কখনো কখনো তাকে গ্রামের বাড়িগুলোর ছাদেও দেখা যায়।

বিশেষ করে যেসব বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে থাকে।

আর যারা তাকে দেখে, তারা একটা বিষয় লক্ষ্য করে—ভূতটা কখনো সরাসরি কাছে আসে না।

শুধু দূর থেকে হাসে।

তারপর নাম ধরে ডাকে।

একবার।

দুবার।

তিনবার।

আর যদি কেউ তৃতীয়বারের পর উত্তর দেয়—পরদিন সকালে তার জানালার নিচে একটা শুকনো বাঁশপাতা পাওয়া যায়।

পাতাটার ওপর কালো দাগ দিয়ে আঁকা থাকে একটা মুখ।

চোখ দুটি বড়।

আর মুখজুড়ে—একটা অস্বাভাবিক লম্বা হাসি।

নয়ন এখন বড় হয়েছে।

শহরে থাকে।

বছরের পর বছর গ্রামে যায় না।

কিন্তু প্রতি বর্ষায়, যখন রাতের বাতাসে বাঁশপাতা ঘষে অদ্ভুত শব্দ হয়, সে একটা জিনিস কখনো ভুলতে পারে না।

সেই প্রথম সন্ধ্যার কথা।

যেদিন সে বাঁশবাগানে দাঁড়িয়ে ওপরে তাকিয়ে একটা মাথাবিহীন, সবুজচে মানুষকে ডেকেছিল—'কে ওখানে?'

কারণ এত বছর পরেও নয়নের মনে হয়—সেদিন গাছের ডালে যে জিনিসটা বসে ছিল, সেটা তাকে প্রথমবার দেখে হাসেনি।

বরং—সে যেন নয়নকে চিনত।

আর সেই কারণেই হয়তো,নয়ন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও,গেছো ভূতটা তাকে কখনো সত্যিই ছাড়েনি।

২০ হাজার বার পড়া হয়েছে · প্রকাশ ১১ জুলাই ২০২৬

এরপর কী পড়বেন

সব দেখুন
ভূতের গল্প

স্কন্ধকাটার শেষ ট্রেন

রাত বারোটার লোকাল ট্রেনে একা এক যাত্রী। প্ল্যাটফর্মের লোকটা হাত নাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তার কাঁধের ওপর মাথাটা নেই।

নিনিশাচর রায়হান
  • ১১ মিনিট
  • ২৫ হাজার বার পড়া হয়েছে

৩ জুলাই ২০২৬

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

চারতলার ৪১৩ নম্বর রুম

হলের চারতলায় ৪১৩ নম্বর রুমটা বারো বছর ধরে তালাবদ্ধ। নতুন সিট বরাদ্দের তালিকায় হঠাৎ সেই রুমের নাম এল, আর প্রথম রাতেই দরজায় টোকা—ঠিক তিনটা বেজে তেরো মিনিটে।

নিনিশাচর রায়হান
  • ৫ মিনিট
  • ২২ হাজার বার পড়া হয়েছে

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিত্যক্ত বাড়ি

সিরিজ: রাতের বাড়ি · পর্ব ১

রাতের বাড়ি — পর্ব ১

সূত্রাপুরের গলির শেষে দোতলা পুরোনো বাড়ি, ভাড়া আশ্চর্য রকম কম। কেয়ারটেকার শুধু দুটো নিয়ম বলে দিয়েছিল—চিলেকোঠা খুলবেন না, আর রাত তিনটায় কলের পানি বন্ধ করতে যাবেন না।

ততমসী আফরোজ
  • ৫ মিনিট
  • ১৮ হাজার বার পড়া হয়েছে

১৯ জুলাই ২০২৬